1. [email protected] : editor :
  2. [email protected] : foysal parveg : foysal parveg
  3. [email protected] : shakil007 :
শালিখার ইউএনও তানভির রহমানের বদলী ও শালিখাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা - মাগুরার খবর
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ০৫:২১ অপরাহ্ন

শালিখার ইউএনও তানভির রহমানের বদলী ও শালিখাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা

  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২০
শালিখা উপজেলার নির্বাহী কর্মর্কতা হিসাবে দায়িত্ব গ্রহনের পর বিভিন্ন দিক থেকে আধুনিক উপজেলা হিসাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করে গেছেন তরুন এই অফিসার তানভির রহমান। ছবিটি তৎকালীলন জেলা প্রশাসক আলী আকবর এর সাথে একটি অনুষ্ঠানে। ফাইল ছবি

মাগুরার খবর ডটকম

মাগুরা শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভির রহমান বদলী জনিত কারনে আজ উপজেলা প্রশাসন শালিখা ফেসবুকে পেজে নিজের দায়িত্বশীলতা এবং কিছু কাজ অসম্পূর্ন অবস্থায় প্রশাসনিক প্রয়োজনে চলে যাওয়ার কথা ব্যক্ত করেছেন।

সাধারন ভাবে একজন নির্বাহী কর্মকর্তার মেয়াদ ধরেই তিনি সাজিয়েছিলেন একটি আদর্শ উপজেলা গঠনে কর্ম পরিকল্পনা। শালিখা উপজেলাকে একটি আদর্শ উপজেলা হিসাবে তিনি গড়ে তোলার প্রক্রিয়ায় ছিলেন। দায়িত্ব গ্রহন করার পর মাত্র ১৪ মাসে শালিখা উপজেলাকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে  নেয়ার চেষ্টায় থেকেও প্রশাসনিক প্রয়োজনে তাকে বদলী হতে হলো। সেজন্য অনেক পরিকল্পনা এবং উদ্যোগ নিজে সমাপ্ত করতে না পারলেও সংশ্লিষ্টদের এবং নতুন নির্বাহী কর্মকর্তা শেষ করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।  সাথে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন শালিখা উপজেলাবাসীর প্রতি যারা তাকে এসব কাজে সবসময় পাশে থেকে সহযোগীতা করেছেন।

শালিখা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে শেষ পোষ্টটি নিচে হুবুহ তুলে ধরা হল।

প্রিয় শালিখাবাসী,

আসসালামু আলাইকুম। গত প্রায় ১৪ মাস আপনাদের সেবা করার জন্য সরকার আমাকে নিয়োজিত রেখেছিল। বিদায় বেলায় প্রথমেই আমার অযোগ্যতা এবং আপারগতার জন্য সেই অধিকার থেকে আপনাদের যতটুকু বঞ্চিত করেছি, তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনাদের জন্য নেয়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগগুলি কখনো সংশ্লিষ্ট ফোরাম ব্যতীত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অন্যান্য উপায়ে ব্যাপক পরিসরে উপস্থাপন করেছি বলে মনে পড়ে না। সে প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টরা ব্যতীত আপনাদের সার্বিক বিষয়ে ধারণা না থাকা স্বাভাবিক। প্রতিবার কাজগুলি এমনভাবে ডিজাইন করা হয় যেন আমার সম্ভাব্য মেয়াদে সেগুলি শেষ হয়ে যায়। এবার পরিস্থিতি ভিন্নতর হওয়ায় অনেক কাজই অসম্পূর্ণ রয়ে গেল। তাই এক প্রকার বাধ্য হয়ে কাজগুলির তুলনামূলক অগ্রগতি তুলে ধরা হল। এতে আপনাদের সহায়তায় নতুন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজগুলি সহজে সম্পন্ন করতে পারবে বলে মনে করছি –

# আমার কর্মকালের প্রথম ৫ মাস এসি-ল্যান্ড না থাকায় ভূমি নিয়ে কিছু কাজ করার সুযোগ হয়। পেন্ডিং নামজারী নিয়ে আপনাদের কষ্টগুলো ৩ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করে ২০ দিনের মধ্যে ই-নামজারীর মাধ্যমে সেবাপ্রদান ব্যবস্থা চালু হয়। হয়ত ই-নামজারী সফটওয়্যারটি তৈরী এবং পাইলটিং টিমের একজন সদস্য হওয়ায় কাজটি সহজ হয়েছিল। বর্তমান এসিল্যান্ড সেবাদান ব্যবস্থাটির আরো মানোন্নয়ন করেছে। ইচ্ছা ছিল কোভিড-১৯ প্রেক্ষিতে ভার্চুয়াল শুনানীসহ অন্যান্য ইস্যুগুলিতে ওর সাথে কাজ করার এবং ভূমি অফিসে না এসে আপনাদের যথাযথ সেবা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার। সেটি হল না। আপনাদের সহযোগিতা ব্যতীত এই জটিল কাজটি এসিল্যান্ডের জন্য সম্পন্ন করা কষ্টসাধ্য হবে।

# দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙ্গে এবার আমরা উন্মুক্ত লটারীর মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের নিকট হতে ধান নেয়ার চেষ্টা করা হয়। কাজটি সম্পন্ন করতে নানাবিধ জটিলতা ছিল। কৃষি কার্ডগুলি কয়েক বছর আগের হওয়ায় কিছুটা জটিলতা থাকলেও অত্যন্ত কৌশলে কৃষদের নিকট থেকেই ধান সংগ্রহ করা হয়। সিন্ডিকেটটি যেন আবার ফিরে না আসতে পারে সেজন্য নতুন উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সহায়তা করবেন।

# ট্যাগ অফিসারদের সরেজমিনে যাচাইয়ে চলমান ভিজিডি এবং খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর উপকারভোগীদের তালিকায় অসংগতি প্রতীয়মান হওয়ায় ১৪৪৯ টি ভিজিডি কার্ডের মধ্যে ১৬ টি ভিজিডি কার্ড বাতিলের সুপারিশ এবং ১৯৯৭ টি খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর কার্ডের মধ্যে ৫৩১ টি কার্ড বাতিল করে চেয়ারম্যানদের দেয়া নতুন তালিকা মোতাবেক পুনঃযাচাইয়ের মাধ্যমে নতুন উপকারভোগী নির্ধারণ করা হয়। দারিদ্রের হার নিয়ে তথ্যগত ভুলের জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর কার্ডের সংখ্যা নিয়ে যে জটিলতা নিরসনে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের মাধ্যমে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আশাকরি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নতুন কার্ড প্রকৃত উপকারভোগীরা পাবে।

# আপনারা জানেন এবার মাইকিং করে ভাতা প্রদান কমিটি কর্তৃক ইউনিয়ন পরিষদে উন্মুক্ত যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে ইউনিয়ন কমিটির মাধ্যমে চুড়ান্ত যাচাই-বাছাইপূর্বক ১,৫২৫ জন বিধবা, বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিপূর্বে অনুমোদিত ৮,৫২১ জন ভাতাভোগীর তালিকা সঠিকতা নিরূপনের জন্য যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। কাজটি শেষ করা গেল না। আশা করছি নতুন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ কাজটি সম্পন্ন করবেন।

# মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর “জমি আছে, ঘর নাই” প্রকল্পে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রাপ্ত তালিকা আমি এবং এসিল্যান্ড আপনাদের বাড়ি বাড়ি যেয়ে যাচাই করেছি। তালিকাটিতে অনেকের নাম বাদ পড়ায় এক সপ্তাহ ধরে মাইকিং করে ট্যাগ অফিসারদের সহায়তায় আবেদন গ্রহণ করে বাদ পড়াদের নিয়ে আরো একটি তালিকা তৈরী করা হয়। পরবর্তীতে আমি, এসিল্যান্ড এবং ট্যাগ অফিসারদের নিয়ে উভয় তালিকা ধরে আপনাদের বাড়ি বাড়ি যেয়ে সঠিকতা যাচাই বাছাই করি। আশাকরি চুড়ান্ত তালিকাটি গ্রহণযোগ্য হয়েছে। কেউ কেউ এলাকার বাইরে কাজ করেন। এছাড়াও আরো কিছু ব্যক্তি হয়তবা কোন মাধ্যমে আমাকে অবহিত করতে সমর্থ হননি। আশা করছি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নতুন নির্বাহী অফিসার বিষয়টি বিবেচনা করবেন।

# জনপ্রতিনিধিদের সাথে পরামর্শক্রমে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এবং স্থানীয় একদল তরুণদের নিয়ে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন করা হয়। বলতে দ্বিধা নেই, সর্বপ্রথম এবং সবচেয়ে ব্যাপক পরিসরে এটি আপনাদের উপজেলাতেই গঠিত হয়। পরবর্তীতে প্রথম আলোর প্রতিবেদনের পর সারা দেশে তা ছড়িয়ে পড়ে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ সকল তরুণ জনপ্রতিনিধিদের নেতৃত্বে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতসহ নানাবিধ সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছে। এর ফল হল আজকে এ উপজেলায় সর্বনিম্ন করোনা সংক্রমণ। নানাবিধ বাধার মুখে পড়ায় বেশ কিছুদিন তাদের কর্মকান্ডে কিছুটা স্থবিরতা এসেছে। আপনারা সহায়তা করলে নতুন উপজেলা নির্বাহী অফিসার পূর্বের ন্যায় তাদের এ কাজে নিয়োজিত করতে পারবেন।

# উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষকদের ব্যবস্থাপনায় আপনাদের দেয়া খাবার প্যাকেট এবং দুস্থদের তালিকা অনুযায়ী আপনাদের ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এ উপজেলায় স্থানীয় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রথম মাসে যেখানে যেখানে সরকারীভাবে ৭,৫০০ পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হয়, সেখানে ১৪৫৭ জন দাতা ব্যক্তি এবং ১৬ টি দাতা প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় প্রায় ১০,০০০ পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা সম্ভব হয়। আশা ছিল পরবর্তী মাসে স্থানীয়ভাবে উপজেলার ৪০,০০০ পরিবারের মধ্যে ২০,০০০ পরিবারকে এর আওতায় আনা সম্ভব হবে। স্থানীয়ভাবে সৃষ্ট কিছু অপ্রীতিকর ঘটনার প্রেক্ষিতে সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ মনক্ষুণ্ণ হয়ে আপাতত এ কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকলেও আমি আশা করব হতদরিদ্রদের কষ্ট বিবেচনা করে তারা পুনরায় এটি শুরু করবেন।

# ক্রীড়া এবং সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মানোন্নয়নের জন্য উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে উন্নত মানের প্রশিক্ষণ, প্রতি মাসে অন্তত একটি মানসম্মত ক্রীড়া/সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড উপহার দেয়ার মাস্টারপ্লান করা হয়। কিছু কর্মকান্ড শুরু হলেও কোভিড-১৯সহ অন্যান্য কারণে সেটি টেকসই পর্যায়ে উন্নীত করা গেল না। তবে পরিষদ চত্ত্বরে সদ্য তৈরীকৃত জাতীয় মানের ব্যাডমিন্টন কোর্টটিতে অফিসার্স ক্লাবের আয়োজনে গত জানুয়ারীতে সংগঠিত হওয়া ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টটিকে এ বিভাগের সবচেয়ে উচু মানের ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট বলেই সবাই উল্লেখ করেছে। এটি আপনাদের উপজেলার একটি ব্রান্ড হতে পারে। এটি চালু রাখবেন আশাকরি।

# পেনশনসহ নানাবিধ কারণে সিনিয়র সিটিজেনগণ উপজেলা পরিষদে আগমণ এবং দীর্ঘক্ষণ দাড়িয়ে থাকার বিষয়টি মাথায় রেখে উপজেলা পরিষদের দু’বিল্ডিং-এর মাঝখানে একটি বিশ্রামাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। পরবর্তীতে সুলভমূল্যে স্বাস্থ্যকর খাবারের সহজলভ্যতা এবং জাইকার অর্থায়নে স্থানীয় দরিদ্র নারীদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিবেচনা করে এর সাথে একটি ফুড কর্ণার যোগ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিশ্রামাগারটির কাজ চলমান। কাজ শেষ হলে আশাকরি পরিষদ চত্ত্বরে একটি নতুন আবহ সৃষ্টি হবে।

# আপনাদের বিনোদনের জন্য ইকো পার্কের জন্য নির্ধারিত স্থানের উন্নয়ন, ফটকী নদী কেন্দ্রিক বিনোদন কেন্দ্র এবং উপজেলা পরিষদের পুকুর কেন্দ্রিক কিছু উদ্যোগ ছিল –

 ইকোপার্কের খালের দু’পাশে এক কি,মি করে লম্বা দুটি ওয়াকওয়ে এবং ওয়াকওয়ের দুই প্রান্তে দুটি ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। পার্কের অংশের ওয়াকওয়ে এবং একটি ব্রিজ খুব শীঘ্রই টেন্ডারে যাবে। কোভিড-১৯ এর জন্য বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টি না হলে অপর পাশের ওয়াকওয়ে ও ব্রিজের প্রকল্প দু’টির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি থাকত। পার্কের ভিতর শিশু পার্ক, গোলঘর এবং খালপাড়ে বসার স্থান নির্মাণে সংশ্লিষ্ট সংস্থা থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গিয়েছিল।

 ফটকী নদীর পাড়ে কাঠের ওয়াকওয়ে এবং এর মাঝে মাঝে কিছু বসার স্থান নির্মানের পরিকল্পনা ছিল। মাস্টারপ্লানটি বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসক মহোদয়ের মাধ্যমে ফটকী নদীটি এবছর নদী খননের তালিকাভূক্ত করা হয়েছে। ইচ্ছা ছিল নদীতে আপনাদের বিনোদনের জন্য কিছু নৌকা দিব। শুরু করতে পারিনি।

 উপজেলার পরিষদ পুকুরের চারপাশে ওয়াকওয়ে, বসার স্থান এবং পুকুরের মাঝে কাঠের ব্রিজ নিয়ে একটি গোলঘর নির্মানের প্রকল্পগুলির ডিজাইন তৈরী ও অনুমোদন সংক্রান্ত কাজ কোভিড-১৯ শুরুর আগে সম্পন্ন ছিল। আশা করছি আপনাদের সহযোগিতায় সংশ্লিষ্টরা এর বাস্তবায়ন করবে।

# উপজেলার টেকসই উন্নয়নের জন্য তারুণ্যের শক্তির উপর আস্থা রেখে এবং উপজেলার কৃষি অর্থনীতিকে মাথায় রেখে টেকসই উন্নয়নের জন্য জাইকার অর্থায়নে নির্মাণ করা হয় “দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র”। এর অধীনে –

 ইতিমধ্যে “ফ্রি-ল্যান্সিং ট্রেনিং প্রোগ্রাম” চালু হয়েছে। ইতিমধ্যে দুটি ব্যাচের ২০ জন ফ্রি-ল্যান্সার প্রশিক্ষণ শেষে অর্থ উপার্জন শুরু করেছে। নতুন আরো দুটি ব্যাচে ৩৩ জনের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। আমার চলে যাওয়ার পরও যেন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি নিরবিচ্ছিন্নভাবে চলমান থাকে সেজন্য স্থানীয় উদ্যোক্তাদের ব্যবস্থাপনায় এটি ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে তাদের যেন সমস্যায় না পড়তে হয় সেজন্য উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতার বিষয়টি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে গেলাম।

 কম্পিউটারে দক্ষ নয় এমন তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য “সমন্বিত ফল চাষ” এবং “মাছ মোটাতাজাকরণ প্রকল্প” হাতে নেয়া হয়েছিল। উপজেলায় ফল চাষে ৫২ জন এবং মাছ চাষে ৬১ জন উদ্যোক্তা পাওয়া যায় এবং গত ১৫ তারিখ থেকে এটির প্রশিক্ষণ শুরু ও এ মাসের শেষ নাগাদ এটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত ছিল। এর আগেই বদলীর পরিপত্র প্রকাশ হওয়ায় শুরুটা করে দেয়া গেল না।

 এলাকার মাটি, বাশ, ও কাঠের কাজের আধুনিকায়নে প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সেগুলি রপ্তানী করে নির্দিষ্ট শ্রেণীর মানুষের ভাগ্যন্নয়নের উদ্যোগটি কোভিড-১৯ এর জন্য শেষ পর্যন্ত স্থগিত করতে হয়।

 একইভাবে কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে যেতে ইচ্ছুকদের হয়রানি কমাতে এবং দক্ষতা নিশ্চিত করতে টিটিসি-এর সাথে একটি সমঝোতা হয়। দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আরবী-মালয় ভাষা শিক্ষা প্রদানের উদ্যোগটির অনেক অগ্রগতি থাকলেও কোভিড-১৯ এর জন্য বাস্তবায়ন করা গেল না। আশাকরি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এর বাস্তবায়ন হবে।

# একদিকে সদর উপজেলায় উপযুক্ত জমি না পাওয়া, অন্যদিকে শালিখা উপজেলায় উপযুক্ত জমির সংস্থান নিশ্চিত করা, সেই সাথে প্রকল্প পরিচালক মহোদয় এবং জেলা প্রশাসক মহোদয়ের আন্তরিকতা এবং প্রকল্প পরিচালক মহোদয়কে সকল ধরণের সহযোগিতার আশ্বাসের ফলস্বরূপ আধুনিক বিসিক শিল্প নগরী শালিখা উপজেলায় স্থাপনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এটির বাস্তবায়ন করা গেলে আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায় ব্যাপক একটি পরিবর্তন আসবে বলে আশা রাখি। এটির চুড়ান্ত অনুমোদন এবং সফল বাস্তবায়নের জন্য যার যার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা এবং সরকারকে সকল ধরণের সহায়তা করা প্রয়োজন।

# উপজেলার প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নের জন্য দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা, মানসম্মত পাঠদান এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বিদ্যালয়গুলির আর্থিক সঙ্গতি এবং সামগ্রিক অবস্থার সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি ডিটেইল প্লান তৈরী করা হয়। আর সেটি বাস্তবায়নের জন্য ৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় পাইলটিং এর জন্য নির্ধারণ করে সেখানে নিম্নোক্ত বিষয়াদি বাস্তবায়নের উদ্যোগ ছিল –

 শিক্ষকদের মানোন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। জাইকার আর্থিক সহায়তায় ঢাকা থেকে স্বনামধন্য IELTS প্রশিক্ষক এনে একটি মাস্টার ট্রেনার গ্রুপ তৈরী করা হয় এবং তাদের মাধ্যমে অন্যান্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়। এ মাস্টার ট্রেইনারদের নেতৃত্বে বিভিন্ন স্কুলে ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ ক্লাব এবং ডিবেটিং ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়। কোভিড-১৯ সংক্রমণের আগে বিভিন্ন স্কুলের প্রোগ্রামে এ ক্লাবের ছাত্র-ছাত্রীদের ইংরেজীতে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা এবং স্বল্প সময়ে ভাষার উপর তাদের দক্ষতা আমাকে অভিভূত করেছে।অন্যান্য বিষয়গুলিতেও একই ধরণের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হল না।

 মুখস্ত বিদ্যা, নোট বই এবং পাইভেট পড়ার উপর নির্ভরতা কমানোর জন্য কুইজ পরীক্ষা (ক্লাস টেস্ট) চালু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এজন্য পাইলটিং স্কুলগুলির শিক্ষকদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক হয় এবং তাদের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়। ইচ্ছা ছিল কুইজ পরীক্ষার প্রশ্ন তৈরীর টিমের সাথে কাজ করার। কোভিড-১৯ এর জন্য বাস্তবায়ন করতে পারিনি।

 সহশিক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ল্যাংগুয়েজ ক্লাব, ডিবেটিং ক্লাব, বিজ্ঞান ও গণিত ক্লাব, কুইজ ক্লাব, মিউজিক ক্লাবসহ ১২ টি ক্লাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে সরকারি আইডিয়াল স্কুলে ০৮ টি ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হয়। অন্যান্য স্কুলেও বেশ কয়েকটি ক্লাবের কার্যক্রম শুরু হয়। কোভিড-১৯ সংক্রমণের জন্য পূর্ণতা দেয়া যায়নি। ক্লাবগুলির কার্যক্রমে গতিশীলতা আনার জন্য সোমবার ও বৃহস্পতিবারের শেষ দুইটি পিরিয়ড নির্ধারণ করা হয়। বাচ্চারা যেন উৎসাহ পায় সেজন্য ক্লাব সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রতিযোগিতা চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়। যে বাচ্চারা ক্লাবে অংশ গ্রহণ করবে না তাদের জন্য জন্য উক্ত সময়ে সোমবারে বাংলা উপস্থিত বক্তৃতা এবং বৃহস্পতিবারে ইংরেজী উপস্থিত বক্তৃতায় অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক ছিল। এছাড়া সৃজনশীলতা বিকাশের জন্য সমসাময়িকসহ পরীক্ষা কেন্দ্রিক নয় এমন বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজীতে রচনা প্রতিযোগিতার উদ্যোগ নেয়া হয়।

 আই,সি,টি-তে দক্ষ করে তোলার জন্য নবম শ্রেণীর সকল ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন ব্যাচে ভাগ করে স্কুল শেষে ৩০ মিনিট কম্পিউটার প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এজন্য ৩ মাস মেয়াদী প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরী হয় এবং সে মোতাবেক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান শুরু হয়। বাচ্চাদের কম্পিউটার ক্লাসগুলি শুরু করে যেতে পারলাম না।

 বাচ্চাদের দেশপ্রেমে উবুদ্ধ করার জন্য মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমকে ব্যবহার করে দেশপ্রেমমূলক সিনেমা, ডকুমেন্টারী প্রভৃতি প্রদর্শনের উদ্যোগ ছিল। এছাড়া ইংরেজীতে দক্ষ করে তোলার জন্য শিক্ষামূলক ইংরেজী এ্যানিমেশন মুভি প্রদর্শনের একটি প্রস্তুতিও ছিল।

 বিকেলে প্রাইভেট পড়া বন্ধ এবং বাচ্চাদের সুস্থাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য প্রতিদিন বিকালে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হয়। স্কুলগুলির নিজস্ব ফান্ড এবং উপজেলা পরিষদের ফান্ড ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামদির যোগান নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়। এছাড়া বাচ্চাদের মননশীলতার বিকাশের জন্য নানাবিধ ক্রীড়া এবং সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

 স্কুল এ্যাসেম্বলিতে পরিষ্কার ড্রেসসহ অন্যান্য শৃংখলাজনিত বিষয়াদি নিশ্চিত করার কার্যক্রম চালু হয়। বাচ্চাদের শারিরীক ও মানসিক অবস্থা নিরূপনে ক্লাস শুরুর আগে ক্লাস টিচারদের মাধ্যমে নিবিড় পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। অনুপস্থিতি, বিলম্বে আগমণ এবং ক্লাস ত্যাগের বিষয়াদি কঠোরভাবে বন্ধের চেষ্টা করা হয়।

 স্কাউটস-এ “আমাদের অভিভাবক আমরাই দেখব” ধারণার প্রবর্তন করা হয়। কয়েকজন স্কাউটস নিয়ে তৈরী ছোট দলগুলি বৃদ্ধ ব্যক্তিদের নিকট উপস্থিত হয়ে তাদের কিছুটা সময় দিবে, ছোট খাট কাজে সহায়তা করবে অর্থাৎ সিনিয়র সিটিজেনরা যে অবহেলিত নয় সেটি তাদের বোঝানো প্রভৃতি উদ্দেশ্য নিয়ে এটি চালু করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আশাকরছি উপজেলা স্কাউটসের নেতৃবৃন্দ এটি বাস্তবায়ন করবে।

 শিক্ষা সংক্রান্ত আরো অনেক ইস্যু ছিল। লেখা বড় হয়ে যাচ্ছে বলে আর বিস্তারিত লিখলাম না। আশাকরছি সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ সকল উদ্যোগগুলির সফল বাস্তবায়ন করবেন।

দীর্ঘ প্রায় ১৪ মাস আপনাদের উপজেলায় আমার কর্মকালে সকল কাজে আপনাদের নিরঙ্কুশ সহযোগীতা আমাকে কৃতজ্ঞতার নাগপাশে আবদ্ধ রাখবে। একেবারে নতুন কোন বিষয়ের অবতারণা করলেও আপনারা আমার প্রতি যে আস্থা ও সমর্থন দেখিয়েছে তা আগামী দিনের যেকোন উদ্যোগ গ্রহণে আমাকে অনুপ্রাণিত করবে। আমার আগের স্টেশনগুলিতে আমার বদলী যেন না হয় সেজন্য স্থানীয়দের মসজিদে দোয়া, মা-বোনদের রোযা রাখা, হিন্দু সম্পদায়ের মধ্যে পুজা দেয়ার ঘটনা ছিল। এবারও নানাভাবে আপনারা ভালবাসায় সিক্ত করেছেন। প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারীর প্রতি আপনাদের এই সম্মান, ভালবাসা তাকে আমৃত্যু আপনাদের সেবায় নিয়োজিত থাকার মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ করবে … … …

মোঃ তানভীর রহমান

উপজেলা নির্বাহী অফিসার

শালিখা, মাগুরা।

(৩০ মে ২০১৯ – ২৩ জুলাই ২০২০)

খবরটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
© সর্বস্বত্ব -২০১৯- ২০২০ মাগুরার খবর.    কারিগরি ব্যবস্থাপনায় - মাগুরা আইটি সল্যুশন 

কারিগরি সহায়তায়ঃ আইটি বাজার
error: মাগুরার খবর সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত