1. [email protected] : editor :
  2. [email protected] : foysal parveg : foysal parveg
  3. [email protected] : shakil007 :
বদলে যাওয়া মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদ চত্বর - মাগুরার খবর
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ০৫:৪৫ অপরাহ্ন

বদলে যাওয়া মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদ চত্বর

  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২০
মাগুরার খবর মহম্মদপুর
মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে ২৯ ফুট উচ্চতার বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল। ছবিঃ মাগুরার খবর।

মাগুরার খবর ডটকম

কয়েক মাস আগে যারা মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদে গিয়েছেন, তারা এখন গেলে নিশ্চিত ধাক্কা খাবেন। আরও কয়েক মাস পর গেলে আরও বড় ধাক্কা খাবেন। কারন কয়েক মাসের ব্যবধানে পরিষদের চত্বরের পরিষদের আমূল পরিবর্তন এসেছে। আগের পুরনো অনেক স্থাপনা ভেঙে নতুন করে সাজানো হচ্ছে উপজেলা পরিষদ চত্বর। যা মহম্মদপুরের ক্ষেত্রে বড় একটি ইতিবাচক ঘটনা।

বঙ্গবন্ধুর ২৯ ফুট উচ্চতার ম্যুরাল

মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে চেয়ারম্যান ও নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের সামনের জায়গাটি কদিন আগেও ছিল পরিত্যাক্ত। পুরনো ভবন ও ময়লা আবর্জনায় ঠাসা। সেখানে স্থাপিত হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ২৯ ফুট উচ্চতার একটি ম্যুরাল। উপজেলা পর্যায়ে এটি বঙ্গবন্ধুর সর্ব বৃহৎ ম্যুরাল বলে দাবি করা হচ্ছে। সেইসাথে একটি পানির ফোয়ারাসহ দেড় একর জায়গাকে সৌন্দর্য বর্ধনের আওতায় আনা হয়েছে।  গত ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে ম্যুরালটি সর্ব সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। ম্যুরালটি স্থাপনের ফলে কয়েক মাসের ব্যবধানে পুরো উপজেলা পরিষদ চত্বরের চেহারাই বদলে গেছে।

মডেল মসজিদ ও বহুতল বিপনিবিতান

পরিষদে মূল ফটকের ডান পাশে যেখানে শহীদ মিনার, ক্রীড়া সংস্থার ভবন, মসজিদ ও শহীদ আবীর পাঠাগার ছিল সেই জায়গাটি এখন ফাঁকা। ভেঙে ফেলা হয়েছে পুরনো সব স্থাপনা। সেখানে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে মডেল মসজিদ নির্মানের কাজ। তার পাশেই হবে বহুতল বিপণী বিতান। পুরনো দোকান পাঠ ভাঙায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এখানে তাদেরকে দোকান বরাদ্দ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সন্দেহ নেই স্থাপনা দুটি তৈরি হলে পূর্নাংগ রূপ পাবে মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদ।

শহীদ মিনার পুনঃস্থাপন

মহম্মদপুর উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগে যেখানে পার্শ্ববর্তী দোকানের চাপে চ্যাপ্টা হচ্ছিল শহীদ মিনারটি। সেখানে পুনঃ স্থাপিত শহীদ মিনারটি পরিষদের নতুন ভবনের পাশে অনেকটা খালি জায়গা পাচ্ছে।

হেলিপ্যাড থেকে সবজি বাগান

পরিষদের পেছনে প্রেসিডেন্ট এরশাদের আমলে নির্মিত হেলিপ্যাডটি দীর্ঘদিন ছিল অবহেলিত। চলতি বছরের শুরুতে সেখানে সবজি বাগান করার উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন। করোনার শুরু থেকে সেখান থেকে উৎপাদিত সবজি পরিষদের কর্মকর্তা, কর্মচারীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগ ব্যপক প্রসংশা কুড়িয়েছে। কারন বিশাল এই জায়গাটি পরিত্যাক্ত ভাগাড়ে পরিণত হয়েছিল। যেখানে মাদকের আড্ডা বসতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সূত্র বলছে, পরিষদের পেছনে হেলিপ্যাডের জায়গাটি নিয়ে আরও পরিকল্পনা রয়েছে। একটি সেতু স্থাপনের মাধ্যমে পুরো এলাকাটি একটি লেকের রূপ দেওয়া হবে।

দৃশ্যমান আরও কিছু উন্নয়ন

নতুন স্থাপনার পাশাপাশি গত কয়েক মাসে পুরনো বেশ কিছু স্থাপনাও সংস্কারের আওতায় এসেছে মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে। নতুন করে রঙ করায়, পরিষদের পুরনো ভবনটিও নতুন মনে হচ্ছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় পরিষদের আবাসিক ভবনগুলো অনেকটাই ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল। সেগুলোর পাশাপাশি সংস্কার করা হয়েছে অফিসার্স ক্লাব, পানির পাম্পসহ বেশ কিছু স্থাপনা।

মহম্মদপুরে গত কয়েক বছরে পরিষদ চত্বরে অপরিকল্পিতভাবে বেশকিছু মার্কেট বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেখানে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের পাশাপাশি অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মানের জন্য প্রশাসনের ভাবমূর্তি ভীষণভাবে ক্ষুন্য হয়। কয়েক মাসের ব্যবধানে অবশ্য পরিস্থিতি বদলেছে। এখন আমরা আশা করতে পারি মডেল মসজিদ, বহুতল বিপণীবিতান ও হেলিপ্যাডে লেকের পরিকল্পিত উন্নয়ন কাজ শেষ হলে দৃষ্টিনদন একটি উপজেলা পরিষদ চত্বর পাবে মহম্মদপুরের মানুষ। যেটা দেশের অন্যান্য উপজেলার জন্য একটি মডেল হবে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে এতো কিছু সম্ভব হোল কিভাবে? গত বছরের ৮ ডিসেম্বর মহম্মদপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন মোঃ মিজানূর রহমান। তার পদায়নের পরই মূলত পরিবর্তনের শুরু। পরিষদের প্রতিটি উন্নয়ন কর্মকান্ডে তিনি দক্ষতা ও সৃজনশীলতার প্রমাণ রেখেছেন। এই যেমন সবজি বাগান তৈরির অর্থ তিনি সরবরাহ করেছেন অফিসের আপ্যায়ন বাজেট থেকে। এটি তিনি পেরেছেন কারন করোনার সময় অফিসে অতিথিদের আগমন তেমন ঘটেনি। কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছর পরিষদের ভবন সংস্কারের বাজেট থাকে। ফলে স্বদিচ্ছা থাকলে এসব কাজে বেগ পেতে হয়না। বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ও এর সামনে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে একটি বাজেট পাওয়া গেছে। এর সাথে পরিষদের অন্যান্য খাত থেকে ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় নির্মিত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন এই স্থাপনা।

তবে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু আব্দুল্লাহেল কাফিসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও স্থানীয় মানুষের সমর্থন না পেলে এই ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাই মহম্মদপুরের ইতিবাচক এই পরিবর্তনের অংশীদার আসলে অনেকে। যাদের অনেকের নাম হয়তো আমরা জানিনা। সবশেষে একটি কথা বলতে হয়, মহম্মদপুরের ইতিবাচক পরিবর্তনের এই ধারা অব্যাহত থাক।

খবরটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
© সর্বস্বত্ব -২০১৯- ২০২০ মাগুরার খবর.    কারিগরি ব্যবস্থাপনায় - মাগুরা আইটি সল্যুশন 

কারিগরি সহায়তায়ঃ আইটি বাজার
error: মাগুরার খবর সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত