1. [email protected] : editor :
  2. [email protected] : foysal parveg : foysal parveg
  3. [email protected] : shakil007 :
সাধারণ মানুষের হয়রানি ঠেকাতে সাত দফা নির্দেশনা দিয়েছে হাইকোর্ট। - মাগুরার খবর
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন

সাধারণ মানুষের হয়রানি ঠেকাতে সাত দফা নির্দেশনা দিয়েছে হাইকোর্ট।

মাগুরার খবর ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২০

ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানায় সাধারণ মানুষের হয়রানি ঠেকাতে সাত দফা নির্দেশনা দিয়েছে হাইকোর্ট।

ভুয়া পরোয়ানা নিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কৃষি বিভাগের প্রোগ্রাম অফিসার মো. আওলাদ হোসেনের স্ত্রীর রিটের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দিয়েছে আদালত।

ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানায় ৬৮ দিন জেল খাটেন আওলাদ হোসেন। এ ঘটনায় রিট আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ বুধবার আদেশ দেয়।

এসব নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, কারা মহাপরিদর্শক, সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে পাঠাতে বলেছে আদালত। এছাড়া প্রত্যেক দায়রা জজ, মেট্রোপলিটন দায়রা জজ, সব ট্রাইব্যুনাল, বিশেষ আদালতের বিচারকদের অবগত করতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এমাদুল হক বশির, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সারোয়ার হোসেন বাপ্পী।

আদালতের সাতটি নির্দেশনা হলো-

১ (ক). পরোয়ানা প্রস্তুতকারী ব্যক্তিকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৭৫ ধারার বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত ফরমে সঠিক ও সুস্পষ্টভাবে তথ্য পূরণ করতে হবে।

১ (খ). অভিযুক্তের নাম ও ঠিকানা এজাহার নালিশি মামলা বা অভিযোগপত্রে বর্ণিতমতে সংশ্লিষ্ট মামলার নম্বর ও ধারা এবং ক্ষেত্রমতো আদালতের মামলার নম্বর ও ধারা সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করতে হবে।

১ (গ). সংশ্লিষ্ট জজ (বিচারক)/ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষরের নিচে নাম ও পদবির সিল এবং ক্ষেত্রমতো দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারকের নাম ও পদবির সিলসহ বামপাশে বর্ণিত সংশ্লিষ্ট আদালতের সুস্পষ্ট সিল ব্যবহার করতে হবে।

১. (ঘ). গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রস্তুতকারী ব্যক্তির (অফিস স্টাফ) নাম, পদবি ও মোবাইল ফোন নম্বরসহ সিল ও তার সংক্ষিপ্ত স্বাক্ষর ব্যবহার করতে হবে, যাতে পরোয়ানা কার্যকরকারী ব্যক্তি পরোয়ানার নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো সন্দেহের উদ্রেগ হলে পরোয়ানা প্রস্তুতকারীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে করতে পারেন।

২. গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রস্তুত করা হলে স্থানীয় অধিক্ষেত্র কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট পিয়নবহিতে এন্ট্রি করে বার্তা বাহকের মাধ্যমে তা পুলিশ সুপারের কার্যালয় বা সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠাতে হবে। পুলিশ সুপারের কার্যালয়/থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ওই পিয়নবহিতে স্বাক্ষর করে বুঝে নিতে হবে। গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রেরণ ও কার্যকর করার জন্য পর্যায়ক্রমে তথ্যপ্রযুক্তি কাজে লাগানো যেতে পারে।

৩. স্থানীয় অধিক্ষেত্র বাইরের জেলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করার ক্ষেত্রে পরোয়ানা ইস্যুকারি কর্তৃপক্ষ গ্রেফতারি পরোয়ানা সিলগালা করে এবং অফিসের সিল মোহর ছাপ দিয়ে সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পাঠাবেন।

৪. সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকতা সিল মোহর করা খাম খুলে গ্রেফতারি পরোয়ানা পরীক্ষা করে এর নির্ভুলতা নিশ্চিত করে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য ব্যবস্থা নেবেন। তবে কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানার ক্ষেত্রে সন্দেহের উদ্রেক হলে পরোয়ানায় উল্লেখিত প্রস্তুতকারির মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে নির্ভুলতা নিশ্চিত হয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করবেন।

৫. গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করার জন্য পরোয়ানা গ্রহণকারী কর্মকর্তা গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রাপ্তি অন্তে তা কার্যকর করার আগে আবার পরীক্ষা করে যদি কোনো সন্দেহের উদ্রেক হয় সেক্ষেত্রে পরোয়ানায় উল্লেখিত পরোয়ানা প্রস্তুতকারির মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করবে।

৬. গ্রেফতারি পরোয়ানা অনুসারে আসামিকে বা আসামিদের গ্রেফতারের পর সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে ওই আসামি বা আসামিদের আইন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেট/জজ আদালতে গ্রেফতারি পরোয়ানাসহ উপস্থাপন করতে হবে। এবং ম্যাজিস্ট্রেট বা জজ গ্রেফতার আসামিদের জামিন না দিলে আদেশের কপিসহ হেফাজতি পরোয়ানা মূলে আসামি/আসামিদের জেল হাজতে পাঠানোসহ ও ক্ষেত্রমতো সম্পূরক নথি তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যুকারী জজ/ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বরাবর পাঠাবেন।

৭. সংশ্লিষ্ট জেল সুপার বা অন্য কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হেফাজতি পরোয়ানামূলে পাওয়া সংশ্লিষ্ট আসামি/আসামিদের গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যুকারী আদালতে এই মর্মে অবিলম্বে অবহিত করবেন যে, কোন থানার কোন মামলার সূত্রে বা কোন আদালতে কোন মামলায় বর্ণিত আসামিদের ওই আদালতের ইস্যু করা পরোয়ানামূলে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে আসামিদের নতুন কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রাপ্ত হলে জেল সুপার ওই পরোয়ানার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালত হতে নিশ্চিত হয়ে পরোয়ানা কার্যকর করবেন।

নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে কক্সবাজারের এক মামলায় গত বছরের ৩০ অক্টোবর আওলাদ হোসেনকে আশুলিয়া থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর পর দেখা যায়, ওই মামলায় আওলাদ আসামি নন। ৬৮ দিন পর তিনি জেল থেকে মুক্তি পান।

খবরটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
© সর্বস্বত্ব -২০১৯- ২০২০ মাগুরার খবর.    কারিগরি ব্যবস্থাপনায় - মাগুরা আইটি সল্যুশন 

কারিগরি সহায়তায়ঃ আইটি বাজার
error: মাগুরার খবর সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত