1. [email protected] : editor :
  2. [email protected] : foysal parveg : foysal parveg
  3. [email protected] : shakil007 :
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এ কাবু ইউরোপ আমরা কোন পথে - মাগুরার খবর
মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এ কাবু ইউরোপ আমরা কোন পথে

মাগুরার খবর ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২০

দেশে করোনা সংক্রমণের শনাক্তের হার কমেনি। এখনো প্রতিদিনই ১০ শতাংশের উপর রোগী শনাক্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ একইভাবে চলছে। প্রথম ঢেউই চলমান। বাংলাদেশে করোন নিয়ন্ত্রণ হয়নি। কয়েকগুণ রোগী অ-শনাক্ত থেকে যাচ্ছে। এরমধ্যেই দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা বাড়ছে। ইতিমধ্যে ইউরোপের অনেক দেশ করোনার দ্বিতীয় সংক্রমণে কাবু।

সংক্রমণ বাড়ায় নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। ক্রমে স্থবির হয়ে পড়ছে জনজীবন। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে বিভিন্ন দেশের সরকার। কোটি কোটি মানুষের ওপর আবারো কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে। এর ফলে ফ্রান্স, ইতালি, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশ আবারো প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। দেশে গ্রীষ্মকালের পর আবহাওয়া শীতল হলে এই মহামারি আরো মারাত্মক আকার ধারণ করবে বলে কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ইউরোপে এক সপ্তাহে করোনা রোগীর সংখ্যা ৪৪ শতাংশ বেড়ে গেছে। কোয়ারেন্টিন না মানায় সংক্রমণ বাড়ছে বলে সংস্থাটি মনে করছে। এটা অত্যন্ত দুশ্চিন্তার বিষয় মন্তব্য করে সংস্থাটি বলছে, কয়েক মাসের মধ্যে ইউরোপে গত এপ্রিলের পিকের (চূড়া) তুলনায় মৃত্যু ৫ গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
সরকারি হিসাব মতে, দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৬ হাজারের কাছাকাছি। শনাক্তের সংখ্যা ৪ লাখের কিছু কম। দেশে ৮ই মার্চ প্রথম করোনা শনাক্ত হয় আর প্রথম মৃত্যু ১৮ই মার্চে। প্রথম থেকেই করোনার থাবা ঢাকাতে। হটস্পট ছিল রাজধানী। দিনে দিনে সারা দেশে ছড়ালেও রাজধানীতেই অর্ধেকের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়গুলো শিথিল হওয়ায় রাজধানীতে আবার সংক্রমণ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মত, মানুষের মধ্যে সর্বজনীনভাবে মাস্ক ব্যবহার, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, হাত ধোয়ার অভ্যাস বাড়ানো এবং পরীক্ষা ও আইসোলেশনের মতো স্বাস্থ্যবিধির কঠোর প্রয়োগের ওপর এ রোগের বিস্তার অনেকটা নির্ভর করবে।

করোনাভাইরাসের কার্যকর কোনো টিকা না আসা পর্যন্ত এ মহামারি শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম উল্লেখ করে আগামী শীতকালে বাংলাদেশে এ ভাইরাসটি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের আশঙ্কা, আর্দ্রতা, সূর্যের তাপ, ভিটামিন ডি-এর অভাব এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়াসহ শীতকালে অন্যান্য ভাইরাস ও ফ্লু জাতীয় শ্বাসকষ্টের রোগের লক্ষণ দেখা দেয় বলে এসময় মানুষ করোনাভাইরাস নিয়ে আরো বেশি সংবেদনশীল হয়ে ওঠতে পারে।

করোনা প্রতিরোধ বিষয়ক জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির অন্যতম সদস্য, বিশিষ্ট ভাইরোলজিস্ট এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, করোনা সংক্রমণে আমরা এখনো প্রথম ঢেউয়ের মধ্যেই আছি। কারণ দেশে প্রতিদিনই ১০ শতাংশের উপরে করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। করোনা সংক্রমণ শীতে বাড়লে দ্বিতীয় ঢেউ বলা যাবে। শীতে করোনা বাড়া মানে দ্বিতীয় ঢেউ। বুধবার জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির একটি সভা হওয়ার কথা আছে জানিয়ে তিনি বলেন, শীতে করোনা বাড়লে কি করণীয় হবে তা নিয়ে মিটিংয়ে আলোচনা করা হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া) সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক মানবজমিনকে বলেন, আমরা করোনা নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। দেশে প্রথম ঢেউই এখনো চলমান। এটাই আরো বাড়তে পারে। যদি শনাক্ত ৫ শতাংশের নিচে আসে তখন বলা যাবে করোনার প্রথম ঢেউ শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, শীতে ঠাণ্ডাজনিত রোগে মৃত্যুর হার বেড়ে যেতে পারে। এই সময়ে সংক্রমণ বাড়ার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই বলে তিনি মনে করেন।

দেশের বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং ইউজিসি অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, আমাদের করোনা সংক্রমণ এখন বাড়েনি। সামনে ভয় আছে। ডিসেম্বরে করোনার সংক্রমণ বাড়ার শঙ্কা দেখছেন তিনি। এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আরো বলেন, আমাদেরকে দ্বিতীয় ঢেউয়ের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। ঘন ঘন সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। মাস্ক পরতে হবে।

ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রতি নজর দিতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দ্বিতীয় ঢেউয়ে কাবু ইউরোপ: শীতের মাসগুলোতে করোনা সংক্রমণ বাড়বে, এমন পূর্বাভাস সত্ত্বেও ইউরোপের বেশির ভাগ দেশ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। বিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় একের পর এক দেশে লকডাউন ঘোষণা করতে হচ্ছে। সোমবার আয়ারল্যান্ড ও ওয়েলস করোনাভাইরাস মহামারি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আবার লকডাউন ঘোষণা করেছে। আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন বুধবার রাত থেকে ‘স্টে অ্যাট হোম’ নির্দেশ কার্যকর করছেন। সরকারি এই বিধিনিয়মের আওতায় অতি প্রয়োজনীয় ব্যবসা-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্র বন্ধ থাকবে। তবে স্কুল খোলা রাখা হবে।

খবরটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
error: মাগুরার খবর সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
© সর্বস্বত্ব -২০১৯- ২০২০ মাগুরার খবর.    কারিগরি ব্যবস্থাপনায় - মাগুরা আইটি সল্যুশন 

কারিগরি সহায়তায়ঃ আইটি বাজার
error: মাগুরার খবর সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত