1. [email protected] : editor :
  2. [email protected] : foysal parveg : foysal parveg
  3. [email protected] : shakil007 :
শীতে মাগুরার কোটি টাকার ফুলকপি যাচ্ছে দেশের নানা প্রান্তে - মাগুরার খবর
শনিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২১, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন

শীতে মাগুরার কোটি টাকার ফুলকপি যাচ্ছে দেশের নানা প্রান্তে

বিশেষ প্রতিবেদক
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২০

দক্ষিনাঞ্চলে শীতের সবজি হিসাবে ফুলকপির গুনাগুন ভেদে মাগুরা জেলার সুনাম রয়েছে বিগত এক যুগ ধরে। ডিসেম্বরের আগেই মাগুরার নানা প্রান্ত থেকে ফুলকপি বাজারে আসতে শুরু করেছে।

গেল বছরগুলোর মত এবারও ফুলকপি চাষে সাফল্য পেয়েছেন জেলার কৃষকরা । নভেম্বরের মাঝামাঝি শীতের সবজি হিসাবে বাজারে আসতে শুরু করেছে নতুন ফুলে বেড়ে ওঠা ফুলকপি। চলতি ডিসেম্বরের প্রথম দিকে প্রতিদিন মাগুরার পাইকারী বাজারে দেখা দিচ্ছে ট্রাক ভর্তি ফুলকপি। প্রতিদিন ভোর রাতেই চলে যাচ্ছে ঢাকার কারওয়ান বাজার থেকে চট্রগ্রাম, সিলেটঁ,বরিশাল সহ দেশের বিভিন্ন বড় শহরের পাইকারী বাজারে। ব্যবসায়ীরা বলছেন মাগুরার ফুলকপির স্বাদের দিক দিয়ে এগিয়ে। তাই কদর বেশি। এজন্য চাহিদাও বেশি রয়েছে দেশের নানা অঞ্চলে।

শীতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিত্য সবজির পাশাপাশি ফুলকপি দিয়ে রান্না বেশ জনপ্রিয় । সারা বছর বিভিন্ন সবজি পাওয়া গেলেও ফুলকপি বাজারে পাওয়া যায় না। এটি প্রতি বছর নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত বাজারে দেখা যায়। আর এ সময়টা মাগুরার চার উপজেলায় ব্যাপক আকারে ফুলকপি বাজারে আসতে শুরু করে।

মাগুরা সদর উপজেলা সহ ,শ্রীপুর,শালিখা ও মহম্মদপুর উপজেলার বেশ কিছু গ্রামাঞ্চলের কৃষকরা এ চাষ করছেন । বিশেষ করে যশোর জেলায় যেতে মাগুরার শালিখা উপজেলার মহাসড়কের দু’পাশে শত শত হেক্টর জমিতে ফুলকপি এখন দেখা যায়। অন্য সব উপজেলার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শীতের শুরুতে তারা ক্ষেত থেকে ফুলকপি তুলে পাইকারি বাজারে বিক্রি শুরু করছেন এবং ভালো দাম পাচ্ছেন । তারা  জানান,শীতের সবজির চাহিদা ভাল। তবে অন্য সবজির তুলনায় ফুলকপি খুবই সুস্বাদু ও পুষ্টিকর থাকার কারণে এ সবজির চাহিদা বাজারে সবসময় বেশি ।

শ্রীপুর উপজেলার খামারপাড়া গ্রামের ফুলকপি চাষী জামাল হোসেন  জানান,আমি এ বছর ৭০ শতক জমিতে ফুলকপি চাষ করেছি । চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে এ চাষের জন্য জমি তৈরি করে ফুলকপি চারা রোপন করি । চারা রোপনের পরপরই শুরু করি নিয়মিত পরিচর্যা । পাশাপাশি সার ও সেচ নিয়মিত দিচ্ছি জমিতে । অন্যান্য সবজির তুলনায় এ চাষে বাড়তি যতœ না করলে ফলন ভালো হয় না । চারা বড় হলে জমির মধ্যে আগাছা পরিস্কার করতে হবে নইলে চারা বৃদ্ধি পাবে না । এ চাষের জন্য সূর্যের আলো খুবই প্রয়োজন । ঘন কুয়াশা বা বৈরি আবহাওয়া কিংবা অতিবৃষ্টি হলে এ চাষের ক্ষতি হয় । কুয়াশা ফুলকপি চাষের জন্য খুব ক্ষতিকর।

চারা বড় হয়ে ফল আসতে শুরু করলে পরিচর্যা আরো বাড়াতে হবে । নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাসে পরিপূর্ণ হয় ফুলকপি । এখন ডিসেম্বরে অনেক এলাকায় ফুলকপি বড় হয়ে গেছে। বাজারেও পাওয়া যাচ্ছে। তবে পরিপূর্ন স্বাদ পেতে হলে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি অপেক্ষা করতে হবে।

এ ব্যবাসায়ী আরো জানান,৭০ শতক জমিতে এ চাষে আমার খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা । আশা করছি এ বছর আমি ৩ লক্ষ টাকার ফুলকপি বিক্রি করতে পারবো।
সদর উপজেলার হাজিপুর গ্রামের ফুলকপি চাষ করেছেন রাসেদ মিয়া। তিনি নিউজবাংলাকে জানান,আমি প্রায় ৯০ শতক জমিতে ফুলকপি চাষ করেছি। আশা করছি এবার আরো ভাল দাম পাবো। এবার আমার টার্গেট ৫ লক্ষ টাকার ফুলকপি বাজারে বিক্রি করব।

শালিখা উপজেলার নিজাম মোল্লা ফুলকপি চাষ করেছেন চার একর জমিতে । তিনি প্রতি বছর বড় আকারে ফুলকপি চাষ করেন। এবার তিনি ফুলকপি ডিসেম্বরের ২ তারিখ পর্যন্ত বিক্রি করেছেন ২ লক্ষ টাকার মত। তিনি  জানান, গত বছরে ১২ লক্ষ টাকার ফুলকপি বিক্রি করেছেন দেশের নানা প্রান্তের পাইকারী বিক্রেতাদের কাছে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ১৭ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি আশা করছেন।

পাইকেরি বাজারে বর্তমানে ফুলকপি প্রতি পিচ ১৫-২০ টাকা হারে বিক্রি হচ্ছে । এসব চাষের পাশাপাশি বেগুন,পেয়াজ,মিষ্টি কুমড়ো,মুলা ও ছিম চাষ করছে স্থানীয়রা কৃষকেরা। এতে সাফল্যর ধারাবাহিকতা পাচ্ছেন তারা ।
মাগুরা পাইকারী একতা বাজারের সভাপতি আকরাম মোল্লা  জানান,গত বছরের তুলনায় এবার শীতে ফুলকপির সরবরাহ বেশি। গত তিন সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন প্রায় ৩-৫ লক্ষ টাকার ফুলকপি দেশের নানা প্রান্তে ট্রাকে করে বিক্রি হয়েছে। এবার কোটি টাকার ফুলকপি বিক্রি ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি নিউজবাংলার কাছে দাবী করেন।
মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুশান্ত কুমার প্রামানিক  জানান,শীতের সবজি হিসারে জেলায় ফুলকপি চাষে ভাল সফলতা পাচ্ছেন চাষীরা। এ সময়ে বাজারে ফুলকপির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

তিনি আরও জানান ফুলকপি চাষে বাড়তি পরিচর্যা ও পরিশ্রম করতে হয় কৃষকদের। নিয়মিতভাবে সেচ দিতে হয়। সেই সাথে সার ও পরিমান মত না দিলে গাছের ক্ষতি হয়। মাগুরার চাষীরা বাড়তি যতেœর ফলে এ বছরও ব্যাপক আকারে ফুলকপি চাষে সফলতা পেয়েছেন।

তিনি বলেন, মাগুরা জেলায় চলতি মৌসুমে ১৩০ হেক্টর জমিতে ফুলকপির চাষ হয়েছে । কৃষি বিভাগ থেকে মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করা হচ্ছে । আমরা এ চাষে জেলার কৃষকদের আরো উদ্ধুদ্ধ করছি ।

 

 

এই বিভাগের আরো খবর
error: মাগুরার খবর সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
© সর্বস্বত্ব -২০১৯- ২০২০ মাগুরার খবর.    কারিগরি ব্যবস্থাপনায় - মাগুরা আইটি সল্যুশন 

কারিগরি সহায়তায়ঃ আইটি বাজার
error: মাগুরার খবর সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত