1. [email protected] : editor :
  2. [email protected] : foysal parveg : foysal parveg
  3. [email protected] : shakil007 :
মাগুরা আলাইপুরের সুমন ভাত না খেয়েই ১৮ বছর - মাগুরার খবর
শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১, ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন

মাগুরা আলাইপুরের সুমন ভাত না খেয়েই ১৮ বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ১১ মার্চ, ২০২১
সুমনের ১৮ বছর জীবনে একদিনও ভাত খাওয়া হয়নি। ভাতের সাথে বৈরীতায় কাটছে তার তারুন্য।

দাওয়াতে পরিবারের সাথে গিয়েও তাকে দূরে থাকতে হয়েছে। ভাত কিংবা বিরিয়ানী না খেয়ে খেতে হয়েছে পাউরুটি কিংবা সিঙ্গারা। ভাতের গন্ধ সহ্য না হওয়ায় খাবারের টেবিল থেকে দূরে থাকতে হয়। এমনও হয়েছে না খেয়ে দিন রাত কাটাতে হয়েছে। ভাত খাইনে বলে আত্বীয় বাড়ি যাওয়া হয় না। এ নিয়ে কেটে গেছে ১৮ বছর।
কথাগুলো বলছিলেন সাইফ মাহমুদ সুমন। ১৮ বছরের সুমনের জীবন যাপনে রয়েছে ভিন্নতা। জন্মের পর থেকে সে ভাত মুখে দেয়নি। এখন সে মাগুরা আদর্শ কলেজে প্রথম বর্সের শিক্ষার্থী। মানবিক নিয়ে পড়া সুমনের একমাত্র অপছন্দ ভাত। বাঙালীর প্রধান খাবার ভাত হলেও সুমনের বেলায় তা হয়নি। কৈশোর পেরিয়ে এখন তরুন সুমনের খাওয়া দাওয়ার রুটিনে ভাত এখন অসহ্যকর এক খাদ্যর নাম। পরিবারের সবাই ভাত খেলে সুমন অন্য ঘরে নাক বন্ধ করে শূয়ে থাকে।

সুমনের বাড়ি মাগুরা সদর উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নের আলাইপুর গ্রামে। তার বাবা রিয়াজ মিয়া একজন সামান্য বেতনের চাকুরীজীবি। সুমনের পরিবারে রয়েছে তার একমাত্র সাকিল ভাই দু বছরের। সে ভাত খায়। তার ভাত খাওয়ানোর সময়েই ঠিকঠাক মত ভাত মুখে দিয়েছে মা রোজিনা বেগম।

সুমনের সাথে কথা হয় মাগুরার খবরের। তিনি বলেন,ছোটবেলায় যখন আমার ভাত মুখে দেয় তখন থেকেই আমার ভাতের প্রতি অনীহা। এরপর বড় হতে থাকলে ভাতের সাথে মাছের প্রতি অনীহা জন্ম নেয়। প্রাইমারী স্কুলে পড়া কালীন ভাত খেয়ে সবাই স্কুলে আসতো আর আমি পাইরুটি খেয়ে স্কুল করতাম। স্কুল শেষে বাড়িতে ফিরে ভরদুপুরে খেতাম সিঙ্গারা,চানাচুর কিংবা যে কোন ভাজাপোরা খাবার।

সমুন জানান, রাওতড়া হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেছি। হাইস্কুলে উঠে যখন একটু বড় হলাম,তখন বিষয়টি বিব্রতকর হয়ে গেল। সহপাঠীরা হাসহাসি করতো। একটা সময় পুরো স্কুল জেনে গেল আমি ভাত না খেয়েই জীবন যাপন করি। শিক্ষকরা বলতেন বিপদে পরবি ভাত খাওয়ার অভ্যাস কর। আমি তবু পারিনি ভাত খেতে। এভাবেই কলেজে উঠে গেছি। রুটি আর নুডুলস আমার প্রিয় খাবার।

মা জেসমিন খাতুন  কে জানান, ছেলে ডিম আর আলু খেয়ে কাটিয়ে দিয়েছে ১৮ বছর। তার পাশে কেউ ভাত খেলে সে দূরে থাকে। এমনকি তার ছোট ভাই ভাত খায় বলে তাকে কোলেও নেয় না সে।এখন সকালে বিস্কিট খায়। দুপুরে রুটি করে দিই। রাতে চিপস কিংবা ভাজাপুরা কিছু খায়। প্রায় দিনই সে না খেয়ে থাকে। খাওয়া দাওয়া অনিয়ম থাকলেও খেলাধুলায় সে ভাল। লেখাপড়ায় ভাল। ফাইভে এ+ পেয়েছিল।
আত্বীয় বাড়ি গেলে ছেলের খাওয়ার সমস্যা হয়না। তারা জানে যে সুমন ভাত খায় না।

সুমনের বাবা রিয়াজ মিয়া বলেন,কলেজ বন্ধ থাকাকালীন বসেই ছিল। তাকে ঢাকা একটা চাকুরি ঠিক করি। কিন্তু ভাত খায় না বলে সে চাকুরিতে গেল না।
কোন শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছে কিনা বললে সুমনের মা জেসমিন খাতুন বলেন,একবার ডাক্তার দেখাইছিলাম। ডাক্তার বললো ভাত না খেলে কোন সমস্যা নেই। অনেক দেশেই মানুষ ভাত খায় না। সে যদি ভাত খেলে সমস্যা হয় তবে ভাত খাওয়ার দরকার কি।
সুমনের চাচা রিপন শেখ বলেন,ছোটবেলা থেকে আমার ভাস্তে সব খায় তবে কিন্তু ভাত খায় না। এলাকার সবাই জানে। মোড়ের দোকানে বসে প্রায় দেখি চানাচুর কিংবা পাউরুটি খায়। দোকানে যা আছে সবই খায়।
সুমনের বাড়ির পাশের মুদি দোকানী মোসলেম বলেন, সুমন ভাত খায় না এটা আমরা গ্রামেই সবাই জানি। আমার দোকান থেকে প্রায় সে পাউরুটি কিংবা বিস্কুট খায়। এভাবে দেখছি বড় হয়ে গেছে। সে খেলাধূলায় খুব ভাল।
সুমনের স্কুল শিক্ষক আমিনুল ইসলাম  জানান,সুমন ছেলেটা ভাল। কিন্তু তার একটা আশ্চর্য বিষয় ছিল সে ভাত খায় না। স্কুল থেকে একবার পিকনিকে যাওয়া হয়েছিল সুমনকে নিয়ে বিপদ। কারন সে ভাত খায় না। সে অঞ্চলে দোকানপাটও ছিল না। ছেলেটা না খেয়ে ছিল। পরে বাসে আসার সময় একটা বাজারে থেমে তার জন্য পাউরুটি কিনে খাওয়া হয়।

মাগুরা সিভিল সার্জন ডা: শহিদুল্লাহ দেওয়ান  জানান, মানুষের শরীরে বেচে থাকতে হলে মোট খাবারে ২০% ফ্যাট ২০% প্রোটিন ২০% কার্বোহাইড্রেট পেলে সে নিশ্চিত ভাল ভাবে বেচে থাকবে। এটা যদি ভাত ছাড়াও হয় তবে কোন সমস্যা নেই। তবে এই উপাদান গুলো যদি অতিরিক্ত পরিমানে শরীরে জমা হতে থাকে তবে তার শারীরিক সমস্যা হতে পারে।

এই বিভাগের আরো খবর
error: মাগুরার খবর সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
© সর্বস্বত্ব -২০১৯- ২০২০ মাগুরার খবর.    কারিগরি ব্যবস্থাপনায় - মাগুরা আইটি সল্যুশন 

কারিগরি সহায়তায়ঃ আইটি বাজার
error: মাগুরার খবর সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত